Bangal Press
ঢাকাWednesday , 29 May 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. এক্সক্লুসিভ
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরির খবর
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. বিনোদন
  11. ভ্রমণ
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা জগৎ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মির্জাপুরে বংশাই নদীতে বালু সন্ত্রাস, অসহায় মানুষ

Link Copied!

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বংশাই নদীর রহিমপুর অংশে ড্রেজার (খননযন্ত্র) দিয়ে দিনরাত বালু উত্তোলন করে বাল্কহেড ভর্তি করে তা অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। এমন তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তথ্য ও চিত্রধারণ কালে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে জনে জনে নারী পুরুষ আসতে থাকেন ঘটনাস্থলে। তাদের চোখে মুখে অসহায়ত্বের ছাপ, সম্মিলিত কণ্ঠে তাদের একটাই দাবি আপনারা ড্রেজিং বন্ধ করে দেন।
সরজমিন মঙ্গলবার (২৮ মে) বিকেলে বংশাই নদীর রহিমপুর এলাকায় গিয়ে মিলেছে নদীর বালু লুটপাটের দৃশ্য। রীতিমতো সন্ত্রাসী কায়দায় বীরদর্পে করা হচ্ছে এসব।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে প্রায় এক দেড় মাস যাবৎ রহিমপুর এলাকায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টা  ড্রেজিং করে এভাবে নদীর বালু লুটপাট করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের স্পট থেকে হাফ কিলো দূরে উপজেলার লতিফপুর-চাঁনপুর ব্রিজ এলাকায় বেশকিছু বাল্কহেড ভিড়িয়ে রাখা হয়। রাত হলে বৃদ্ধি পায় ড্রেজারের (খননযন্ত্র) সংখ্যা। সুযোগ বুঝে বসতবাড়ীর কাছাকাছি ড্রেজিং শুরু করে বালু সন্ত্রাসীরা। লুটপাটকারীদের লাঠিয়াল বাহিনী দিনরাত সেখানে পাহারা দিয়ে থাকেন। প্রতিবাদ করলে মারপিট ও থানা পুলিশের ভয় দেখানো হয়। তাদের ভয়ে তটস্থ থাকে স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, দিনরাত মিলে ওই স্পট থেকে প্রায় বাল্কহেড বালু উত্তোলন করে পার্শ্ববর্তী গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলায় বিক্রি করা হয়। একটি বাল্কহেড লোড দিতে একটি ড্রেজারের ২৫-৩০ মিনিট সময় লাগে। একটি বাল্কহেডে প্রায় ৪৫০০-৫০০০ ঘনফুট বালু লোড হয়। যার প্রতি ঘন ফুটের বাজার মূল্য ১২-১৫ টাকা। সে হিসেবে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৫০-৬০টি বাল্কহেড বালু লোড করা হয়। এভাবে অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বালু সন্ত্রাস সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ২৫-৩০ লক্ষ টাকার বালু বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
নদী থেকে এভাবে বালু উত্তোলন করার ফলে ড্রেজিং এলাকার দুই-তিন কিলোমিটারের মধ্যে থাকা বসতবাড়ি, কৃষি জমি, রাস্তা-ঘাট ধীরে ধীরে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে গোড়াই ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামের শফিক নামের এক ব্যক্তি বালু উত্তোলনের বিষয়টি দেখভাল করেন। ঘটনাস্থলে তাকে না পেয়ে মুঠোফোনে একাধিক যোগাযোগ করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় শফিক, লিটন, কাজল ও জোবায়ের গংয়ের একটি সিন্ডিকেট ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে এসব করছেন বলে জানা গেছে।
রহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা বাছাতন বলেন, এর আগে বালু তোলা বন্ধ করার জন্য প্রতিবাদ করায় বালু উত্তোলনকারীদের ভয়ে আমার স্বামী, ছেলে, আমার দেবর ভাশুর ১৫ দিন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেছে।
আজিজ মিয়া নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, বহু জায়গায় এসব নিয়া দৌড়াদৌড়ি করছি, অভিযোগ দিছি। এতে আমাদের ওপর অনেক বাধা আসতেছে, রাস্তা ঘাটে আমাদের হুমকি ধামকি দেয়। আপনারা আমাদের বাঁচান।
রমজান আলী বলেন, গত বছর বালু উত্তোলন বন্ধ করতে যাইয়া মারামারি হইছিলো। আমার দুই লক্ষ টাকা জরিমানা হইছে। আমারে ধইরা নিয়া যাইয়া ৭ দিনের জেল দিছিলো। কার কাছে বিচার চামু, টাকার সামনে দুনিয়া অন্ধকার।
এদিকে তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসার পথে সন্ত্রাসী কায়দায় এক যুবক সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল থামিয়ে নানা প্রশ্ন করেন। তিনি নিজেকে ওই বালু উত্তোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত জানিয়ে পাতা ২৪না করার জন্যও বলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ নুরুল আলম বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একাজের সাথে যত ক্ষমতাবানরাই জড়িত থাকুক তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা।



শাকিল/সাএ

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।