Bangal Press
ঢাকাMonday , 12 June 2023
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. এক্সক্লুসিভ
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরির খবর
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. বিনোদন
  11. ভ্রমণ
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা জগৎ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘সরকার পতনের আন্দোলনে জামায়াতকেও সাধুবাদ জানাই’

Link Copied!

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাবেক মন্ত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য। একই সঙ্গে দলটির বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি, বিএনপির আন্দোলন, আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গ নিয়ে মুখোমুখি হন ক্যাম্পাসনিউজের। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে শেষটি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু।
ক্যাম্পাসনিউজ: আপনি আগের পর্বে আওয়ামী লীগ থেকে মানুষের মুক্তির কথা বলেছেন। এমন মুক্তি মানুষ বিএনপি থেকেও চায়। মানুষের মুক্তি কোথায়?
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: মানুষের মুক্তি হচ্ছে অর্থনীতি, রাজনীতি, বাকস্বাধীনতায়। গণতান্ত্রিক মুক্তি ছাড়া আসলে মানুষের কোনো মুক্তি নেই।
ক্যাম্পাসনিউজ: এই মুক্তি বিএনপিও দিতে পারেনি। ফের ভরসা করবে মানুষ?
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: অবশ্যই বিএনপি মানুষকে মুক্তি দিয়েছিল। একদলীয় শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে বিএনপিই বহুদলীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিল।
ক্যাম্পাসনিউজ: সেই শাসনব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমলেও হ্যাঁ-না ভোট নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: হ্যাঁ-না ভোটও গণতন্ত্রের অংশ। যারা বোঝে না তারাই এমন প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ কোনো বিষয় সরকার পরিচালনার মধ্যে চলে এলে তখন এই ভোট ব্যবস্থার মাধ্যমে জনরায় নিতে হয়।
আরও পড়ুন>> ‘বিএনপি মাথা নিচু করে বুলেট এড়িয়ে চলছে’
আওয়ামী লীগ তো এ ব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাতিল করেছে। তারা ফের একদলীয় ব্যবস্থা কায়েম করতে চায় বলে এ প্রশ্নগুলো তুলছে।
ক্যাম্পাসনিউজ: সরকার যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই নির্বাচন করে ফেলে, তখন বিএনপি কী করবে?
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে। ঘুঘু বারবার ধান খেয়ে পার পাবে না। চোরের দশ দিন গৃহস্থের একদিন, এবার আওয়ামী লীগের সেই দশা।
ন্যাড়া বারবার বেলতলায় যায় না। বাংলাদেশ সেই অবস্থানে এখন। দেশের ভেতর থেকে যেমন মানুষ জেগে উঠেছে, তেমনি প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক দেশ বাংলাদেশের সামনের নির্বাচন নিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মানবাধিকার কীভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে, বিচারব্যবস্থা কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কীভাবে ববহার করা হচ্ছে তা সবাই এখন অবগত।
ক্যাম্পাসনিউজ: তার মানে বিদেশিদের অবস্থান নিয়ে আপনি আশাবাদী?
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: তারা তো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য কথা বলছেন। আশাবাদী হতেই হবে। বাংলাদেশের মানুষ এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে কীভাবে বিদায় করা যায়, তার জন্য জেগে উঠেছে। আর বিশ্ব বিবেক সেখানে সংহতি জানিয়ে আসছে।
ক্যাম্পাসনিউজ: এমন সংহতি আগেও জানিয়েছিল বিদেশিরা। শেখ হাসিনার সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করে বিশ্বকে ম্যানেজ করেছে। বরং এর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বিচক্ষণ কূটনীতিতে বিশেষভাবে সফল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: আপনি বলতে চাইছেন, সবকিছু ম্যানেজ করে এবারও ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকবে।
ক্যাম্পাসনিউজ: টিকে থাকার প্রশ্নে শেখ হাসিনার সরকার তো সফল। এবারও চেষ্টা করবে?
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: সময়ই সব বলে দেবে। মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরাজিত আওয়ামী লীগকে আর ভোট চুরির মাধ্যমে টিকে থাকতে দেবে না।
আরও পড়ুন>> সংলাপের নামে ‘মুলা ঝুলাচ্ছে’ আওয়ামী লীগ!
ক্যাম্পাসনিউজ: একটু জোট প্রসঙ্গে আসি। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব বাড়ছে এমন খবর পুরোনো। বিএনপি জামায়াতকে এড়িয়ে চলছে বলেও প্রচার আছে। এ প্রসঙ্গে মতামত জানাবেন?
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: বিএনপি-জামায়াতের দূরত্ব বাড়ছে, এটি আওয়ামী লীগের প্রচার। আমরা বিশেষ কোনো দলের ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করি না। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের দাবিতে যে যার অবস্থান থেকে অংশ নিচ্ছে। সরকার পতনের আন্দোলনে জামায়াতকেও সাধুবাদ জানাই। ঘরে আগুন লেগেছে। আগুন নেভাতে সবাই আসুক।
ক্যাম্পাসনিউজ: খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানকে দেশে ফেরানো আপনাদের আন্দোলনের অংশ বলছেন। এখন কী বলবেন?
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: শেখ হাসিনা সরকারের নির্বাচনী প্রকল্প হচ্ছে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাইরে রাখা। এ কারণেই মিথ্যা মামলা দিয়ে খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে, তারেক রহমানকে ফিরতে দিচ্ছে না।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা ছিল। সবগুলো খারিজ করে নিয়েছেন। আর মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়া জেলে আছেন। বিএনপির ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে রায় দেওয়া হচ্ছে, সাজা দেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে নিদারুণভাবে।
ক্যাম্পাসনিউজ: বিএনপি ক্ষমতায় এসে কী করবে? নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ বিএনপির আমলেও ছিল?
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: আমরা ২৭ দফা ঘোষণা করেছি। সেখানে আমরা রাষ্ট্র মেরামতের কথা বলছি। কীভাবে মানুষের স্বাধীনতা মিলবে তার ব্যাখ্যা দেওয়া আছে। চলমান গর্ত থেকে রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে না পারলে দেশ চালানো সম্ভব নয়। দেশ তো গর্তের মধ্যে ডুবে আছে।
ক্যাম্পাসনিউজ: শ্রীলঙ্কা দেউলিয়া। পাকিস্তান একই পথে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নানা সূচকে তুলনা। বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে প্রশংসা করছে বিশ্বমহলও। আর আপনি বলছেন বাংলাদেশ গর্তে ডুবে আছে!
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: গত সাত বছরে যে ঋণ নিয়েছে সরকার, তা গত ৪৫ বছরে নেওয়া হয়নি। সব কাঠামো ভেঙে পড়েছে। আপনি নিজেও চোখে দেখছেন। ঋণ নিয়ে সরকার ঘি খেয়েছে। অথচ সুদসহ পরিশোধ করতে হবে সাধারণ মানুষকে। লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। বের হচ্ছে সব। কয়লা কেনার টাকা নেই। জরুরি ওষুধ পর্যন্ত আমদানি করতে পারছে না সরকার। মানুষ দু’বেলা খেতে পারছে না। বেশিরভাগ মানুষ ঋণ করে খাচ্ছে। আয় বৈষম্য চরমে। এই সরকার পৃষ্ঠপোষকতার যে অর্থনীতি দাঁড় করিয়েছে, তা ভাঙতে না পারলে দেশ শ্রীলঙ্কার চেয়েও খারাপ অবস্থায় পড়বে।
আরও পড়ুন>> গাজীপুরের নির্বাচন থেকে অনেক কিছুর বার্তা মিলেছে
ক্যাম্পাসনিউজ: দুর্নীতি-অর্থপাচারের যাত্রা বিএনপির আমলেও তীব্র ছিল। আপনাদের আমলেই বাংলাদেশ টানা পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়ার আগে চ্যাম্পিয়ন করে গেছে। সেখান থেকে বের হতে বাংলাদেশের আরও কয়েক বছর সময় লাগছে। সামষ্টিক অর্থনীতির শক্ত ভিত আমাদের সময়ই ছিল। আমরাই জিডিপি ৭ শতাংশে এনেছিলাম। আজকের অবস্থা দেখতে পাচ্ছেন নিশ্চয়।
ক্যাম্পাসনিউজ: এরপরেও তো বাংলাদেশ টিকে থাকলো। শ্রীলঙ্কার মতো হলো না। এর জন্য ক্রেডিট কাকে দেবেন?
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: এই ক্রেডিট বিএনপির।
ক্যাম্পাসনিউজ: আর জনগণের?
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: জনগণকে নিয়েই আমরা শক্ত অর্থনীতি গড়েছিলাম। আমরাই সব কাঠামো মজবুত করেছিলাম। আওয়ামী লীগ বরং সব ধ্বংস করে দিয়েছে। আজ মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভ দেখেন, দেখবেন বাকশালের সঙ্গে মিল আছে। মানুষ তো অসহনীয় পর্যায়ে।
ক্যাম্পাসনিউজ: মানুষ তো সয়ে নিচ্ছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: সরকার সমাজে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ভয়ে মাঠে নামতে সাহস পাচ্ছে না।
ক্যাম্পাসনিউজ: পেটে ক্ষুধা থাকলে ভয় কাজ করে না। তার মানে মানুষের পেটে ক্ষুধা নেই।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: মানুষের পেটে ক্ষুধা আছে বলেই আমাদের কর্মসূচিতে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিচ্ছে।
ক্যাম্পাসনিউজ: বিএনপির বিরুদ্ধেও মানুষ মাঠে নেমেছিল। ফুলবাড়ি, কানসাট তার প্রমাণ।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: বিশেষ কারণে তখন মানুষ মাঠে নেমেছে। বিদ্যুতের সংকট ছিল। আমি তো বলছি না যে, বিএনপির সব কিছুই ভালো। কিন্তু অর্থনীতির ভিত্তিটা আমরাই দিয়েছি। বিএনপিও একটি দল। একটি দলের সবই সঠিক হতে পারে না। কিন্তু আমরা মূল জায়গাগুলো ঠিক রেখেছিলাম।
ক্যাম্পাসনিউজ: কী ঘটবে সামনে?
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: জনগণই ঠিক করবে কীভাবে চলবে রাষ্ট্র। চাইলেই আর কেউ পার পাবেন না।
এএসএস/এএসএ/এএসএম

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।